ওপেনএআইতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে এনভিডিয়া

চ্যাটজিপিটির মূল প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ে ৩০ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীর চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া।

এ পদক্ষেপ মূলত এআই খাতের বিশ্ববাজারে নিজেদের আধিপত্য আরো সুদৃঢ় করতে নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেনএআই বর্তমানে বিশ্ববাজার থেকে ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এনভিডিয়ার এ বিশাল বিনিয়োগ সেই তহবিল সংগ্রহেরই একটি বড় অংশ। এ প্রক্রিয়া সফল হলে ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৮৩ হাজার কোটি ডলারে। বেসরকারি পর্যায়ে পুঁজি সংগ্রহের ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় একটি ঘটনা হতে যাচ্ছে।

বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এনভিডিয়া ছাড়াও বিশ্বখ্যাত অন্যান্য প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান যেমন সফটব্যাংক গ্রুপ ও অ্যামাজনও এ বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে। বড় বড় টেক জায়ান্টদের এমন অংশগ্রহণ এআই খাতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব ও প্রতিযোগিতার চিত্রকেই ফুটিয়ে তুলছে। এর মাধ্যমে চিপ সরবরাহকারী, ক্লাউড সেবা প্রদানকারী এবং এআই মডেল নির্মাতাদের মধ্যে এক নতুন কৌশলগত সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে এনভিডিয়া ওপেনএআইয়ের ডেটা সেন্টারের জন্য ১ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের একটি প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে নতুন এ ৩ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ সেই আগের পরিকল্পনাকে স্থলাভিষিক্ত করবে বলে জানা গেছে। বিনিয়োগের এ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিটি সম্পন্ন হতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগায় এখন নতুন কাঠামোয় এ অর্থায়ন হচ্ছে।

ওপেনএআই এই নতুন তহবিলের একটি বড় অংশ খরচ করবে এনভিডিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক চিপ কেনার পেছনে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দেয়া এবং তা বিশ্বজুড়ে সচল রাখার জন্য এনভিডিয়ার গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট বা জিপিইউ বর্তমানে অপরিহার্য। ফলে এ বিনিয়োগের মাধ্যমে এক অর্থে এনভিডিয়ার চিপের বাজার আরো নিশ্চিত হচ্ছে।

এ চুক্তির বিষয়ে এনভিডিয়া এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। একইভাবে ওপেনএআইও এ তহবিল সংগ্রহ বা বিনিয়োগের শর্তাবলি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ বিনিয়োগের ফলে ওপেনএআই যেমন তাদের প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার নিশ্চিত করতে পারবে, তেমনি এনভিডিয়াও তাদের চিপ বিক্রির একটি স্থায়ী বাজার ধরে রাখতে সক্ষম হবে।

আরও